ফুরফুরা দরবার

ভারতীয় উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী ফুরফুরা দরবারের গোড়াপত্তন হয় আনুমানিক ১৮৯৬ সালে পীর মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকী রহ. এর হাত ধরে। শিরক, মাজার পূজা, ভন্ড পীরের দৌরাত্ম্য, কুসংস্কার ও বিদআতের বিরুদ্ধে মুসলিম সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তৎকালীন ওলামা মাশায়েখগণ তাকে মুজাদ্দিদে জামান বলে আখ্যায়িত করেছেন। ব্রিটিশ ভারতের অনগ্রসর মুসলিমদের বিশুদ্ধ আকীদার শিক্ষা, সুন্নাহ প্রতিষ্ঠা, সামাজিক সংস্কার, মানবকল্যাণ, আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক ইসলামী শিক্ষার প্রসারের জন্য মুজাদ্দিদে জামানের হাতে শুরু হয় ফুরফুরা দরবারের কার্যক্রম। ভারতের হুগলির ছোট্ট একগ্রাম ফুরফুরায় শুরু হওয়া এ দাওয়াতী কার্যক্রমের পরিসর পশ্চিমবঙ্গ, বাংলাদেশ ও আসাম ব্যাপী বিস্তৃত। মসজিদ, খানকাহ, মাদ্রাসা, এতিমখানা,মাহফিল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এধারা অব্যাহত রয়েছে।

তাওহীদ ও সুন্নাহ প্রতিষ্ঠায়, শিরক ও বিদআত মুক্ত ভাবে রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুসৃত পথেই ফুরফুরা দরবারের নিরন্তর অভিযাত্রা। মানুষের মাঝে দাওয়াতী কার্যক্রম, দ্বীনি শিক্ষার প্রসার, দুঃস্থ ও এতিমদের জন্য এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং, স্বাস্হ্যসেবা ও মানবকল্যাণের নানা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।  পত্রিকা, ম্যাগাজিন, পুস্তক প্রকাশনা ও আধুনিক সকল প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে শ্বাশ্বত ইসলামের বিশুদ্ধ বাণী উম্মাহর কাছে পৌঁছে দিয়ে আদর্শ মানুষ ও সমাজ বিনির্মাণের চেষ্টা করছে এ দরবার।

দাওয়াহ

সেবা

শিক্ষা

শায়খ আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী

ফুরফুরা দরবারের গদ্দিনশীন পীর হিসেবে ২০০৬ সালের ২২ ডিসেম্বর শায়খ আব্দুল হাই মিশকাত সিদ্দিকী হাফিজাহুল্লাহ দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ফুরফুরার মক্তবে শুরু হয় শায়খের শিক্ষাজীবন। পড়াশোনা করেছেন সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সউদ ইউনিভার্সিটি, দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি, আল জামিআতুস সিদ্দিকীয়া দারুল উলুম ফুরফুরায়। কর্মজীবনে  তিনি জমিয়তুল মুসলিমীন হিজবুল্লাহর আমীর হিসেবে ফুরফুরার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়াও আল জামিআতুস সিদ্দিকীয়া দারুল উলুম ফুরফুরার মহাপরিচালক ও শাইখুল হাদীস হিসেবে তিনি খেদমত আঞ্জাম দিচ্ছেন। শায়খের তত্ত্বাবধানে ও সম্পাদনায় ১৫ টির অধিক বই প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মালয়শিয়ায় এপর্যন্ত প্রায় ৪০০০ এর অধিক মাহফিল, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে তিনি অংশ নিয়েছেন। মানুষের মাঝে বিশুদ্ধ ইসলামের শ্বাশ্বত বাণী পৌঁছে দেবার নিরলস খেদমত করে চলেছেন তিনি।

শিরক ও বিদআতমুক্ত জীবনের জন্য

দাওয়াহ

ফুরফুরার দাওয়াতী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাপ্তাহিক ও মাসিক হালাকাহর আয়োজন করা হয়। মসজিদ ও খানকাহ কেন্দ্রীক এসব তালিম ও হালকায়ে যিকরের মজলিশগুলো নির্দিষ্ট সিলেবাস অনুযায়ী ফুরফুরার খলিফা, মুআল্লিম ও মুবাল্লিগগণ জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে পরিচালনা করে থাকেন। ফুরফুরা হুগলী, ঢাকার দারুসসালামের মারকাজে ও পাবনার পাকশী খানকাহতে কেন্দ্রীয় ভাবে বার্ষিক মাহফিল ও ঈসালে সাওয়াব অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও দাওয়াতী খেদমত দেশ বিদেশে ছড়িয়ে দেবার লক্ষ্যে বই, লিফলেট, ম্যাগাজিন ও স্যোসাল মিডিয়া প্লাটফর্ম এর মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তরুণদের জন্য দাওয়াহ কর্মশালা, ইমাম ও খতীবদের জন্য প্রশিক্ষণ, খলিফা, মুবাল্লিগ ও মুআল্লিমদের প্রশিক্ষণের জন্য এসলাহী মজলিশের আয়োজন করা হয়ে থাকে দরবারের পক্ষ থেকে।

সেবা

অসহায় ও এতিমদের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত ২০ টিরও অধিক এতিমখানা ফুরফুরা দরবার পরিচালনা করছে। যাতে অসহায় ও এতিম ছাত্র ছাত্রীরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনা, তিনবেলার খাবার, চিকিৎসা ও নতুন পোশাক পাচ্ছে। এছাড়াও প্রায় প্রতিটি খানকাহতে ফ্রি মুসাফিরখানা আছে। দরবারের নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে শীতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়ে থাকে। এছাড়াও বন্যার্তদের ত্রাণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, নলকূপ স্থাপন সহ সামাজিক সেবামূলক কাজের আঞ্জাম দিচ্ছে ফুরফুরা দরবার।

শিক্ষা

অনানুষ্ঠানিক ইসলামী শিক্ষার জন্য খানকাহ ও মসজিদ কেন্দ্রীক ছোটদের সবাহী মক্তব, বয়স্কদের নৈশ মক্তব পরিচালনা করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক ইসলামী শিক্ষার প্রসার দরবারে ফুরফুরার পৃষ্ঠপোষকতায় ৪৫০ এর অধিক হিফজখানা, দরসে নেজামীর নেসাবের মাদ্রাসা ও আলিয়া নেসাবের মাদ্রাসা এবং বালিকা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সকল প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে এপর্যন্ত লক্ষাধিক ছাত্রছাত্রী দ্বীনি ইলম শিখতে পেরেছে। নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে তারা সফলতার স্বাক্ষর রাখছে।

0 +
খানকাহ
0 +
এতিমখানা
0 +
মাদরাসা
0 +
শিক্ষার্থী
0 +
ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতা
শীতের কম্বল বিতরণ
টিউবওয়েল বিতরণ
বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ
এতিমদের মাঝে বেডিং বিতরণ
বন্যার্তদের মাঝে আর্থিক অনুদান
Click Here
কম্বল বিতরণ
এতিমদের মাঝে বেডিং ও নতুন পোশাক বিতরণ
Previous slide
Next slide

মাসিক মাহফিল

ঢাকা দারুসসালাম: প্রতি ইংরেজি মাসের ২য় জুমাবার, বাদ মাগরিব থেকে এশা পর্যন্ত।

পাবনা পাকশী: প্রতি ইংরেজি মাসের শেষ জুমাবার, বাদ মাগরিব থেকে এশা।